Showing posts with label poem. Show all posts
Showing posts with label poem. Show all posts

Thursday, August 18, 2022

অশোক বাজপেয়ীর কবিতা | অনুবাদ: দেবলীনা চক্রবর্তী

আত্মাই শরীরের অনন্ত স্বপ্ন


বৃক্ষ হল সেই প্রাণ যা পৃথিবীর শরীর থেকে বেড়ে ওঠা এক অটুট বন্ধন


ফুল ততক্ষণই ফুল থাকে যতক্ষণ সে গাছের অংশ হয়ে ফুটে থাকে 

আর পাতা ততক্ষণ সজীব থাকে যতক্ষণ সে গাছের শরীরের সঙ্গে গেঁথে থাকে


শরীর সাধনায় লিপ্ত থাকাকালীনই একমাত্র শরীর ও আত্মার অভিন্নতাকে অনুভব করা সম্ভব


কারণ আত্মাই শরীরের অনন্ত স্বপ্ন দেখে।


উপাসনা এবং চিৎকারের মধ্যবর্তীতে


যেভাবে তুমি ছিলে 

তোমার তরঙ্গায়িত দেহ বিভঙ্গ নিয়ে

মহাশূন্যে থেকে ভালোবাসার মতো

সীমিত আধারে সঞ্চারিত হয়ে 

সেইখানে কি আমি স্থাপন করতে পারি কিছু শব্দবন্ধ

যার সংযোজনে কাব্য গঠন হতে পারে?


তোমার উন্মুক্ত একাকী আলোকিত 

আকাশ আছে যাকে আমার কোনও 

ইচ্ছে বাসনা, কোনও চিৎকার ছুঁতে পারে না

সেখানে অতীত হল এক কিরণ 

আর ভবিষৎ এক অপ্রত্যাশিত ফুল:


শাখা পল্লবিত হয় মুদ্রায় 

আর মুদ্রা এক নীরব প্রার্থনা

সংগীত হল নিঃসঙ্গতা 

চট্ট্যান যেমন ফুল তেমনি ফুলও সেই চট্ট্যান

শরীর তো সমুদ্র 

আবার সমুদ্র হল এক আকাশ 

এবং আকাশই একমাত্র চিৎকার

সেই চিৎকার হল উপাসনা


আমি দেখি 

ক্রমশ কাছে আসা অন্তকে

নদী একাকার হয় সাগরে 

আর অবাঞ্ছিত জল ফিরে আসে 

সময় এবং কামনায়,

আমি প্রথমবার চিনতে পারি 

শব্দকে অবসাদগ্রস্থ হতে 

উপাসনা এবং চিৎকারের মধ্যবর্তীতে অপেক্ষারত 

কবিতা 

যা কোথাও স্থাপন করা সম্ভব নয়।


পাত্র


হটাৎ জানা গেল যে এমন কোনও 

কানা উঁচু পাত্র নেই যেখানে কিছু

দুঃখ আর হরিয়ালি সব্জি রাখা হত

এখন আর নেই..

দুঃখ রাখার জায়গা

ধীরে ধীরে কমে আসছে।


সে আমাতে 


আমার মধ্যে যে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে তাকে নিয়ে আমি ভাবি না

আমার দেহের হাড় মজ্জা নিয়েও আমার ভ্রুক্ষেপ নেই 

যে আত্মা আমারই তাকেও আমি স্মরণ করি না 

যে আমার মনের ভিতর আছে, তবে তাকে কেন ভুলতে পারি না!


তাকে প্রশ্ন করো


হাওয়াকে নয়, তাকে প্রশ্ন করো

সে শব্দ থেকে এখনও অদৃশ্য কেন?

শব্দকে নয় বরং তার কাছে জানো 

সে শব্দের ধরা ছোঁয়ার বাইরে কেন? 

মৌনতাকে নয়, তার কাছে জানতে চাও

ঠিকানা তার ধ্বনি থেকে দূরে...

কিন্তু কত দূর আর কোথায়?


প্রেমের জন্য


সে তার প্রেমের জন্য স্থান সংরক্ষণ করল

সূর্য চন্দ্রকে একপাশে রেখে

আলাদা করে রাখলো তারাদের

বনলতাদের সরিয়ে দিল

ঝেড়ে ঝুরে নিল পৃথিবী

তারপর আকাশের গায়ের

ভাঁজ পরিপাটি করে

সে তার প্রেমের জন্য স্থান সংরক্ষণ করল


গড়া


কিছু প্রেম

কিছু প্রতীক্ষা 

কিছু কামনা দিয়ে 

রচিত হয়েছিল সে

--রক্ত মাংস দিয়ে 

গড়া তো ছিল বহু আগেই


শুধু শব্দ দিয়ে নয়


শুধুমাত্র শব্দ দিয়ে নয়

তাকে স্পর্শ না করেও ছুঁয়ে

চুম্বন না করেও সিক্ত হয়ে

বন্ধনে না জড়িয়েও দু'বাহুর আলিঙ্গনে 

বহুদূর থেকে তার প্রস্ফুটিত রূপ

চোখে না দেখেও দৃষ্ট হওয়া 

তাকে আমি বললাম।


শেষ 


সব কিছুর পরেও

বেচেঁ থাকবে শুধু প্রেম 

সঙ্গমের পরে সজ্জায় লেগে থাকা ভাঁজ যেমন

আমৃত্যু বিষয় ভাবনা,

অশ্বারোহীর দ্বারা পদদলিত হওয়া সত্ত্বেও

হরিৎ চাদর জড়িয়ে ধরিত্রীর পড়ে থাকা, 

গ্রীষ্মের শীর্ণ শুষ্ক ঝরনার কঠিন বুকে 

লেগে থাকা নোনা জলের ধারার মতো

অব্যাহত থাকবে 

শেষ পর্যন্ত

প্রেম



-------------------------------------------------------------------------

ভারতীয় কবি, প্রাবন্ধিক, সাহিত্য সমালোচক অশোক বাজপেয়ী। সরকারি কর্মচারি ছিলেন। তিনি ললিত কলা আকাদেমি, ভারতের জাতীয় শিল্প আলাদেমি, সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধ্যক্ষ ছিলেন। ১৯৯৪ সালে তাঁর কবিতা সংগ্রহ 'কহি নেহি ওহি' জন্য সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পান। উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-- শহর আব ভি সম্ভবনা হ্যায় (১৯৬৬), তৎপুরুষ (১৯৮৬), বাহুড়ি আকেলা (১৯৯২)। দায়াবতি মোদী কবি শেখর সম্মান ও কবীর সম্মাননা পেয়েছেন। ফ্রান্স ও পোল্যান্ডের সরকারি সম্মানেও ভূষিত হয়েছেন।

Tuesday, November 16, 2021

Poems of Alokeranjan Dasgupta | Translated by Elisabeth Gunther

I HAVE REMAINED AN EXAMINEE

Alokeranjan Dasgupta


Still I have remained a mere examinee, the bearers, 

having laid me down on the cremation ground 

and taken their reward, began investigating whether 

my singing voice was still intact. A portly priest 

pocketed his fee and wanted to see my bio-data; 

his holy thread was dirty enough, but penetratingly 

he assessed how pure I had been in manner of life. 

Were I to give him a false reply, that scoundrel 

wouldn't give me a chance to enter errata, but simply 

lay me out on the pyre. Even if I were to provide 

the right response, he would sell my body to the flames.

Autumn and winter are watching me now, almost algebraically. 

 

I AM THE BLISS

Alokeranjan Dasgupta

  

I am the bliss you render

     into a lonely night 

so that no-one can decipher

     your identity ever. 

               

I am the juvenile

     élan vital that you

transmute into an abysmal smile          

     so that no-one may find a clue 

to your innermost blessedness 

     beyond pleasure and grief

where you and I each other embrace

     lying on a lotus leaf.


Photo Courtesy: Elisabeth Gunther, Germany

অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তর কবিতা | ইংরেজি অনুবাদ: রন্তিদেব সরকার

তোমার কমনীয় সেন্সরগুলি


আমার মৃত্যুর পর আমাদের এই অন্তিক ডাকবাংলোর সমস্ত কোণ

থেকে থরে থরে বেরিয়ে আসবে আমার অজস্র আঁকিবুকি।

শেষ তুলির টান দিয়ে তুমি তাদের প্রকাশ করলে কার ঘাড়ে ক’টা

মাথা আছে যে বলবে তুমি মিথ্যাচরণ করো? আমিই শুধু আঁচ করে

নিতে পারব তোমার কমনীয় সেন্সরগুলির মধ্য দিয়ে কীভাবে আমার

মুখচ্ছবি সম্পুর্ণতা পেয়ে গেছে। আমাকে মহর্ষিময়তা অর্পণ করে

একরাশ পাঙাশ খসড়ার নিচে তুমি যখন শুয়ে থাকবে হে আমার অবজ্ঞাত

শিল্প সরস্বতী নির্বোধেরা কেউ তোমাকে একবার দেখতেও আসবে না।


YOUR DELICATE SENSORS

Alokeranjan Dasgupta


After my death hoards of my scribbles will exude

From every nook and corner of our last bungalow.

Just deft finishing touches with your painting brush

Followed by an aesthetic art exhibition and who would

Dare to question your integrity? Only I could visualize

How my portrait came alive through your delicate sensors.

Pampering me to a saintly stature when you would be lying

Beneath a piles of my faded doodles- Oh! my neglected

muse of art, even no dunce would frequent you there!


-----------------------------------------


চিবুক ছুঁয়ে আশীর্বাদের মতো

(বিভাব কবিতা)


যাবার মুখে এ কোন প্রহেলিকা–

সিঁদুরে মেঘে সিঁথি ছুপিয়ে নিয়ে

সমাসন্ন হৈমবতী উমা

আমায় পরখ করবার জন্যে কি?


নৌকো ভেসে গিয়েছে বন্যায়

জরাজীর্ণ কাঠের সেঁউতি বেয়ে

এল আমার হেমন্তের শীতে

অঙ্গীকার চেয়েছে দেহলিতে–


স্পর্শে আমার ইন্দ্রিয় বিগত,

ধানদুর্বাও বাড়ন্ত, ফলত

এই নারীকে শুধুই বরণ করি

চিবুক ছুঁয়ে আশীর্বাদের মতো


একটুখানি ঐতিহ্যের স্বাদ;

চিবুক ছুঁয়ে আমার আশীর্বাদ।


A GUEST IN MY LATE AFTERNOON

Alokeranjan Dasgupta


I wonder how is the riddle

while myself is on the

threshold of departing,

the woman, draped her forehead

In the vermillion cloud

looks irresistible with her adorns

as if goddess in a human guise

reaches my doorsteps,

whether to poise me before a test ?


The boat was swept away in floodwater,

sailing out on a worn-out donga as vessel

she is asking for my refuge

in the winter of my autumn.


My touch-instinct has frozen

neither I possess anymore-

my bliss-paraphernalia.

I can only incarnate her

by touching her chin


A bit taste of age-old custom

I bless her by caressing her chin.



Rendered into English by Rantidev Sarkar

Wednesday, November 10, 2021

সিলভিয়া এউখেনিয়া কাস্তিয়েরোর কবিতা | সেই সামান্য বিরহে

মূল স্প্যানিশ থেকে বাংলায় অনুবাদ | জয়া চৌধুরী


পঞ্চম বসবাস: মোহভঙ্গ 

প্রতিবার যখন ভুট্টার কাণ্ড আরও লাল হতে থাকে

ভুট্টা গাছের পাতা থেকে ঝোলে একটা ফারের পুতুল

বালিকারা লুকোচুরি খেলে

এবং কাকতাড়ুয়াদের অনাবৃত করে ফেলতে থাকে।

সে রয়ে যায় মুখহীন, পরে এক চোখ কানাও,

কান দুটো ওকে হিঁচড়ে টানতে থাকে যতক্ষণে না সে স্বচ্ছ হয়ে ওঠে।

ফুটো ফুটো জালিকায় ভরা আমার বাবাকে ওরা 

যখন অপহরণ করেছিল ঠিক তেমনটি। 

সেই সমতল বিকেলে 

মনে হচ্ছিল ভুট্টার শীষ বেয়ে বয়ে যাচ্ছে রক্ত;

পুতুলের তখন আর নাক নেই, দেখতে পায় না গন্ধও নয়,

চিৎকার করতেও পারে না, বহু মানুষের মাঝখানে ও মারা গিয়েছে,

যেখানে সব শবদেহ রয়েছে বালিকারা সেখানে ওকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল

তখন সবে ওরা ক’জন ভদ্রলোককে বড় বড় পিস্তল দিয়ে গুলি করে উঠেছিল।


বাহুল্যবর্জিত শূন্য

বিকেলের তীব্র আবেগ

সেই কালিমা যা আমার পিছনে ধেয়ে আসে

সেই শুভ্রতা যা আমার স্কার্টকে রঙিন করে তোলে

পৃথিবীর এই খণ্ডে এ হল গোধূলি

আমাকে দংশায় আগুন

ফুলে ওঠে পেট

মুখ জ্বলতে থাকে

মনে হয় বুক থেকে বের হয়ে আসছে পা দুটো

এ হল ভয় যা কর্কশ আওয়াজে আমার শিরদাঁড়া খায়

সমস্ত ভুট্টা ক্ষেত পুড়তে থাকে

জ্বলতে থাকে সমগ্র জনপদ

বাহুল্যবর্জিত শূন্যরা

দুলতে থাকা বৃক্ষদের দিকে

আমার লাল স্কার্ট ছড়িয়ে পড়ে

বিদ্ধকারী সাঁড়াশিদের মতো

ভাঙা জানলারা পড়ে যায়

আমার পোড়া হাতদুটো জল খোঁজে

এক শ্বাসরোধী আগুন খড়ের উপর চিৎকার করে

ডুবে যাওয়া আমার সে চিৎকার, একটা কাঁপুনি

আগুনে গোটা পাহাড় দুমড়ে যায় 

তোমার ভেদকারী চোখেরা আমাকে পলকহীন রেখে দেয়

শস্যাগারে বাড়তে থাকে আগুন

পাশে পাহাড়ে তখন কেবল বাহুল্যবর্জিত শূন্য।


একটি ক্রিসেন্থিমাম পরিধান করি

এবং চুলের উপর সাদা মুকুট;

মা পরেন সাদা জুঁইফুল

এবং গোলাপের মুকুট, কাঁটাগুলি একটি আঙুলে ফোটে।

কাঠের ড্রয়ারে 

ও তার খুলির ভিতরকার বিরাট গর্তে

বাবার গভীর চাহনিতে মা কেঁদে ওঠেন।

ঠাকুমা বাবাকে গুছিয়ে দিয়েছিল যাতে ওরা তাঁকে দেখতে না পায়

কিন্তু আমার মনে তো ওঁরা থাকবেনই। 

মা জানু ঢাকা মোজা পরেছেন, কুঁজো হয়ে হাঁটেন,

চোখে পাথুরে চাহনি, ওঁর আঙুলের রক্ত

বাবার মুখের ওপরে পড়ে টপ টপ, সঙ্গী থাকা কুমারী 

মেরীর ছবিটিতেও। বাবা হাসতে থাকেন,

হয়ত তখনও পালিয়ে না গিয়ে মেঘের ভিতরে থাকেন,

বাবা ভুট্টাক্ষেত বুনতেন এবং মিথ্যে বলতেন,

তারপর লুকিয়ে পড়তেন 

যতক্ষণ না ফের বেরিয়ে পড়েন এবং পাহাড়ে হারিয়ে যান,

ওঁকে ঘুমন্ত অবস্থায় ওরা পায়, কথা বলছিলেন না, কেবল মিথ্যে বলছেন।

ক্রিসেনথিমাম ফুলেদের পাপড়ি ঝরে পড়ে,

মৃত্যু গন্ধ ছড়িয়ে ঢলে পড়তে থাকে জুঁই, তবে ঠাম্মার

গ্লাডিওলাসের শাখারা ঢের বেশি সিরিয়াস, সুগন্ধ ছড়ায় না, কাঁটাও ফোটায় না।

তারা দুঃখী হয় না কক্ষনও।


যেদিন থেকে বহুবার ছিন্নবিচ্ছিন্ন হওয়া শরীর পড়েছে

ঝোপঝাড় দেখলে মনে হয় কাকতাড়ুয়াদের জন্ম দেবার পক্ষে ওরা যথেষ্ট উর্বর 

এবং বিছানার চাদরের মত ওরা ঝুলতে থাকে

দেখায় যেন তীর বিঁধে আছে কাণ্ডে,

আকাশ অন্ধকার করে দিয়ে পাখিরা চিৎকার করতে থাকে

এবং পালায়।

এককোণে ভীষণ লালচুলো এক ডাইনির উদয় হয়

তার মুখে ঘাস আটকে রয়েছে।

নিরলঙ্কার যন্ত্রণার ভেতরে স্তব্ধ, এ এক গর্ভপাত হওয়া চিৎকার।

ডাইনিটা বেগনি। ট্রেন থেকে ছেঁচড়ে নামিয়ে আনার আগে

ওকে নিশ্চয় ওদের শ্বাসরোধ করে রাখতে হয়েছিল। দুলছিল

ঝড়ের সামনে দোল খাচ্ছে বলে, পাশে থাকা ভুট্টার পাতাদের

দেখে মনে হয় দুর্ভাগ্য দেখে মুখ ভ্যাংচাচ্ছে।

চোখ খুবলে নিতে পাতিকাকেরা এগিয়ে আসে,

দুটি গভীর গর্তের

ভেতরকার গোলকধাঁধা দেখতে রেখে যায়;

পরে শকুনেরা তা খেয়ে ফেলে

ভাঙা হাড়গোড়গুলো ফেলে যায়।

সে নারী প্রতিরাতে লাঙল হাতে

গ্রামবাসীর জানলায় উঁকি দেয়।


আগ্নেয়গিরির মতো, কলঙ্কময় সূর্যের আলোয়

ভরাভর্তি চারমাথার মোড়ে ছোটরা দৌড়াদৌড়ি করে;

দেয়ালে বিষুবরৈখিক স্বরভঙ্গি,

কুটিরশিল্প, ইন্ডিয়ান জনজাতির মানুষ, মদ;

ধীরস্থির বুড়োদের জাল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট 

এবং মেঝে ঢেকে দেয়া পাতারা।

তিনজন পুরুষ কাছে এগিয়ে আসে, হাঁটার সময় তারা একেবেঁকে চলে,

দেখলে মনে হয় চোখ নেই, চারমাথার মোড়ের আধখানা গিয়ে

পালানোর পথ খোঁজে, একটা ডাকের জন্য অপেক্ষা করে, নগ্ন আকাশে

লুকোতে চাইবার এক চিহ্ন,

চারমাথার উপরে ছুরি দিয়ে ফালাফালা করার মতো একটা শতপদী কেঁচো 

পবিত্র নৈবেদ্য-গিঁট,

গলা, হৃৎপিণ্ড। এবং ওরা শুকিয়ে যায়।


আধঘুমন্ত মানুষ।

দ্রুত হাতদা-র ধার দিয়ে স্তন দুটো ছোঁয়।

ট্রেনের ছাদে

মুরগিপালকেরা তাদের হ্যাচারি বয়।

ডানা ক্ষইতে থাকা মোটাসোটা মুরগিরা 

নড়াচড়া করতে পারে না।

পাতা জুড়ে একটা কাঁপুনি ছড়িয়ে পড়ে,

ঘাড়ের প্রধান শিরা প্রতি মুহূর্তে আরও পুরু হয়ে চলে--

এটা ভয়-- ছুরি ও ছেদ চওড়া হতে থাকে,

বাড়তে থাকে-- রক্ত বুদবুদ করে ফুটতে থাকে

বাতাসের সংস্পর্শে কালো হয়ে যায়। 

মাথা চোখ বোজাতে সে অস্বীকার করে

যেন তাদের খুঁজছে।

ভেতর থেকে থকথকে কাদার গন্ধ ফুটতে থাকে।


যেদিন অপহরণ ঘটেছিল

আমার পুতুলটা লাল পুকুরে পড়ে গিয়েছিল,

মাথায় ফুটো ছিল ওটার 

আমরা তখন দৌড়চ্ছিলাম আর মা অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল।

আমার পুতুলটা ভাঙা চোখে আকাশের দিকে 

মুখ করে পড়েছিল 

এবং একটা গর্তের ভেতরে

প্লাস্টিকের মতো দুটো গুলি আটকে ছিল।

আমার ত্বকে ঠাণ্ডা লাগছে 

নখেরা আমায় চিরে ফেলতে আসছে,

আঙুল দিয়ে কেটেও ফেলল।

আমার ক্ষতি করল ওরা। 

শূন্য থেকে নীল চোখে আমার পুতুল

আমার দিকে চেয়ে রইল,

নোংরা রক্তটাকে আমি দেখেই যাচ্ছি।



---------------------------------------------------------

কবি সিলভিয়া এউখেনিয়া কাস্তিয়েরো মানসানো (Silvia Eugenia Castillero Manzano) জন্মেছেন মেক্সিকো শহরে। গুয়াদালাখারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য পত্রিকা ‘লুভিনা’ সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত। ২০১২ সালে বাইসেন্টিনিয়াল লেটার্স পুরষ্কার পেয়েছেন। সপরিবারে কলকাতায় এসেছিলেন ২০১৯ সালে। আইসিসিআরে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি।

Saturday, November 6, 2021

মেহুল দেবকলার কবিতা


দুই শহর

আমার সর্বকনিষ্ঠ বন্ধুর জন্য তাঁর ৮০তম জন্মদিনে 


বাংলা অনুবাদ: শ্যামশ্রী রায় কর্মকার 

গুজরাটি থেকে ইংরেজি অনুবাদ: অন্তরা দেবসেন


তুমি কি বিশ্বাস করবে 

শীতের সকালে যে হাসির উষ্ণতা দেয়

সেই শহরের প্রত্যন্ত এক কোণে আমরা ছোট্ট কলকাতা গড়েছি

তোমার হাসির মতো উচ্ছল, প্রাণখোলা সে 


গুরুদেব 

হয়তো কোমল মমতায় 

শিশুটিকে তুলে 

বসিয়েছিলেন তাঁর কোলে

মৃদুস্বরে উচ্চারণ করেছিলেন ন ব নী তা 

তুমি তখনও নিশ্চিত হেসেছিলে


আমি জানি 

এই তীব্র শীতের রাতে 

ভালবাসার কোন ঘরে 

এখন লিখছ তুমি, কিংবা পড়ছ 

পরম শান্তিতে 


মধ্যরাত্রিতে 

তোমার ফোন 

হোয়াটসঅ্যাপ বার্তারা

ভিডিয়ো কলের জন্য 

তুমি অক্সিজেন মাস্ক খুলে দিলে

ওমনি তোমার চোখ বলে উঠলো অজস্র কথা 


কাঁটা বিছিয়ে রাখা রাস্তায় যখন আমি পথ হারিয়ে ফেলি 

কবিতা ও ক্ষমতার টানাপোড়েনের মাঝখানে 

তুমি এসো হাত ধরো, পথ দেখিয়ে যাও প্রতিবার 

বলে ওঠো, 'মেহুল, তুমি আমার ছেলের মতো'


নিয়তি আর আমি 

সুদূর ভাদোদরায় 

ছোট্ট একটা কলকাতা গড়েছি

এবং আমি জানি 

ওখানেও ছোট্ট ভাদোদারা গড়ে উঠছে 

আর তোমার কবিতার মতো আমাদের বন্ধুত্বও অক্ষয়, শাশ্বত। 


এই তো 

ক'দিন আগে 

তুমি বললে, 'আমার গলা বুঁজে  আসছে' 

আমার বুক কেঁপে উঠল 

কিন্তু জানি 

আমার আগেও ছিলে 

আমার পরেও থাকবে তুমি 

যতদিন এই দুই শহর 

বেঁচে থাকবে


১৯ ডিসেম্বর, ২০১৭

ভাদোদরা



---------------------------------------------------------

মেহুল দেবকলা (Mehul Devkala) সাম্প্রতিক গুজরাটি কবিতার অন্যতম নাম। সমাজকর্মী হিসেবে সুপরিচিত। পাশাপাশি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি নির্মাতা। বিভিন্ন পত্রিকায় তাঁর লেখা নিয়মিত প্রকাশিত হয়। যোগ দিয়েছেন সাহিত্য আকাদেমির অল ইন্ডিয়া ইয়ং রাইটার্স মিটে। নবনীতা দেবসেনের স্নেহধন্য।

Saturday, October 16, 2021

Poems of Arunava Raha Roy


Rabindra Sadan


Suddenly what happened, that your mobile phone flew away & landed inside my pocket directly from the space! What happened suddenly, that we kept stand still on the Rabindra Sadan back stage and the whole auditorium transferred into a ship! Oh look over there in the second floor, the white bearded captain whistling to command & start the journey. The fun & frolic will be starting right now… the young ladies from Andaman were about to start playing billiard! Where will we be floating away with this ship? Let's go, let us stand united close to the deck railing… let the wind starts floating hitting our sails. This scenario alike to Titanic, let it stand here, now let us flee away leaving the scene, leaving ourselves... to have some beer somewhere else.. Let a world, absolutely owned by us, starts revolving around us. The lord himself is standing just a bit outside the universe, with that world keeping on his palm... No other way to go! Without spoiling each other we won't be able to go anywhere else leaving this orbit, never ever...

(Translated from Bengali: Debanjana Mukherjee Bhowmik)


Bygone


Staying far is good.

Staying far means

we can never meet again.


Is it good, not to meet?

Definitely not!


But, being far can mean

that we can perhaps meet in

some coffee shop around

the city...

(Translated from Bengali: Anindita Bose)


Faraway


You remained silent,

you had a reason too!

I too did not say anything for many days...

So, now, shall we begin to

talk again?


Let alone meeting,

many days you did not even ask me to write and yet

on your words I could have traveled

to Shimla-Manali...

since there were mountains,

there were some more songs


"Hey poet, how are you?"

You can break the

pattern and ask me once.

(Translated from Bengali: Anindita Bose)


Bodhi


If you gift poems,

how long can I keep writing?

Shall I inscribe you into my

visceral intensity?


Deep inside that tree hollow

whose Esraj plays such a

pristine melody?


As your vibrations come

closer to me, an intense

desire to create more engulfs

my existence.

I revive again to attain the

light through the collaged-water...

(Translated from Bengali: Anindita Bose)


Spring Restaurant


Come, let us travel from one

Spring to another...


Let us meet.

Let me listen your

Nightingale voice

When you speak.

Tell me about your

father's well-being!


Come,

let us go from one Spring to

another...


Let us both sink and drink

water...


Let us perch

within the moonspace

and converse...

(Translated from Bengali: Anindita Bose)


At Jorasanko with Snija


I ran out of poems

But a few of the songs of you came flipping their wings all the way to me,

I ask my writings to get drenched in soothing water,

I assure them that there is nothing that can be better


My dearest,I give you the name 'Snija'

I shall call you lovingly by this name from this very moment 

I shall drape your love all over my new born poems


During the rainy season the blow came from far away America...

Forget it, I thought with a sigh;

My dear, come, let's take a stroll at Jorasanko, together you and I

(Translated from Bengali: Pratyush Karmakar)


Goddess


For long I had been walking on a rope 

Albeit it was tough

But I travelled a fruitful distance no doubt 

Where I finally stopped is called earth

Some unknown artist meticulously made you with this very earth

I place poems in your ten palms instead of brutal weapons,

But you fling all the poems unto the unknown;

After some moments of loathsome disgust


The poems will become burning stars

(Translated from Bengali: Pratyush Karmakar)


Myth


If you really hurt me I shall not hesitate to go away

And lean against the dejected sky


Why are you so silent yet unfathomable?


You are like a drop of water on the floor


Today I retrieved this drop of water from the River Jalangi 


While still leaning against the sky I shall certainly make you understand-


That you are water


I shall, one day, like the fabled crow, bring you up from the depth of the earthen pitcher by putting stone chips one after the other until I can touch you. 


You are water

(Translated from Bengali: Pratyush Karmakar)


Silent Belle


The colour of your disregard is like that of the dusk in flight

Which hides itself on the back of the moon


Sleepy eyelids are like weary rivulet which wash away all the light within


You come hurriedly to the office gate,

And lo! There drips down your body a lightning divine

(Translated from Bengali: Pratyush Karmakar)


Wonder


You are such a lover! What a poem!

You didn't come to Manali but through pen.

Bloomed in the tub, on the edge of the current...


Bless me, waking up late night

I am sitting in the hotel room to write you.


Those who have come to travel, no one knows

Here you are every day pick up the sun

from the alloy and burn it on the top of the mountain..

(Translated from Bengali: Mahmud Mitul)


---------------------------------------------------------

Arunava Raha Roy born in 1991 in Alipurduar town of West Bengal, India. He did his higher education in Kolkata. He loves poetry from his early age, had stemmed from his father who was a known poet. Since then, his work has been publishing regularly in leading magazine of Bengal. In the first stage of professional career he worked as a Poetry Editor in a print magazine and worked also as the Literary Editor in a web magazine. He has completed M. Phil from Assam University.

He has published four books of his own creation of poetry-- Sabuj Patar Megh (2010), Dinanter Bhasha (2015), Khamkheyali Pashbalish (2018) and Snijar Sange Jorasankoy (2020). He is the recipient of Barnali Smriti Puraskar (2015), Uralpool Puraskar (2017) and Soumen Basu puraskar (2017). He has recieved Travel Grant 2018 from Sahitya Akademi. Attend All India Young Writers Meet, May 2021 (Sahitya Akademi, Government of India). Attend Dhaka Lit Fest, Nov 2018. Went to Bangladesh Amar Ekhushe Grantha Mela, Feb 2018. Email: arunavaraharoy@gmail.com

Thursday, August 6, 2020

নীল হলের কবিতা :: মশলা চা


অনুবাদ: শ্যামশ্রী রায় কর্মকার 

একটি ভারতীয় আবহ 

বিদায়ী অশ্রুতে ডুবে থাকা 

সান্ধ্য চায়ে কোনও এক সকালের আলো

একটি সোনালি হলুদ কাপে ধীর লয়ে সমর্পণ করল নিজেকে

কাপের সুডৌল রিমে তার কান্নাভেজা 

রংমাখা ঠোঁট বুদ্ধের চুম্বন এঁকে দিল

একেকটি চুমুক এবং আহ! মশলা দেওয়া চা


প্লেটের ওপর রাখা উচ্ছ্বল হলুদ সেই পোর্সিলিন কাপ

জেনে-বুঝে করা তার দারুণ মেকআপ, হৃদয় আকৃতির হাতল

সে আমার হাতেই ভার দিল

দারুণ সন্তর্পণে ছুঁতে হবে তাকে... তারপর ধীর সমর্পণ 


আমার সারাজীবনের প্রেম, সে ঢেলে দিচ্ছে 

সুগন্ধি মিশেলে ভরা কৃষ্ণকলি চায়ের নির্যাস

মৌরি দেওয়া, উত্তেজনায় ভরানো

দারুচিনির আদরে মাখামাখি 

সবুজ এলাচের আবেশে মাতোয়ারা 

লবঙ্গ, আদার গন্ধ শরীরে জড়িয়ে নেওয়া তার নগ্নতা

উর্বর কৃষ্ণাঙ্গী গোলমরিচে জারানো

এক তরল মিষ্টি দুধ

রূপোর চামচ দিয়ে আলতো নাড়ানো, তার আবেদনে  

আমার অলিন্দ-নিলয় ডুবে গেল


তোমাদের মশলাদার ভারতীয় আবহ, 

বিদায়ী চোখের জলে ডুবে থাকা সকালের চা

হলুদ পোর্সিলিন কাপে ঢালা প্রেমের কবিতা 

সে আমার হাতে তুলে দিল 

বিচ্ছেদের কান্নাটুকু যত্ন করে ঢেলে দিতে বলল আমাকে


কবি পরিচিতি: নীল হল একজন মননশীল সংগ্রামী মানুষ, সমাজকর্মী এবং কবি। উত্তর আমেরিকার কবিতা জগতে তিনি উল্লেখযোগ্য নাম। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি, দর্শন, বিষয়ের ওপর তাঁর তুমুল দখল এবং তাঁর চূড়ান্ত প্রগতিশীল কলম কবিতার দুনিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কবিতা এতটাই শক্তিশালী, যে তাঁর কবিতা পড়ার পর বর্ণবৈষম্য এবং সামাজিক বিষয়ে সাধারণ মানুষের ধারণা আমূল বদলে যেতে পারে। নীচে মূল কবিতাটি দেওয়া হল:

Masala Chai

Neal Hall

a Hindu milieu,

a morning’s light of evening tea,

steeped in parting tears

gently poured an Amarillo cup,

whose encircling rim, her tear stained,

lip stick’d lips imprint the Buddha‘s kiss

each sip and sigh, Masala Chai


an Amarillo porcelain cup, saucer’d and sassy

polished with purpose, appointed her

heart shaped handle, she hands me to handle her

to pour her with gentle care . . . a gentle pour


amour de ma vie, she pours,

an amalgamated aromatic extract of

Black tea, fennel’d aphrodisiac

caressed in cinnamon,

possessed of green cardamom,

unclothed to clothe in cloves, a gingered mist,

a black peppered corn estrus marinated

a watery milky sweet - steeped -

silver spoon stirred, slowly, sensuously

my four chambered fervent heart


A Hindu masala milieu of you, infused

a morning tea steeped in parting tears

gently poured an amarillo, amoretto porcelain cup,

she hands me to handle her to pour her

with gentle care, a gentle pour of parting tears

Monday, August 3, 2020

কিং সউদের কবিতা


খনন

কতটুকু কান্না করলে ফুরাবে অশ্রু? এই মাটি লগ্ন শরীর তোমাকে কেবল পদপিষ্ট করে চলে! তবু চন্দ্রাবতী আষাঢ়ে বৃক্ষের ভেজা দেখে তুমিও ভিজতে চাও দুঃখ ধুয়ে নিতে! তোমার পাশের বালিশে ঘুমায় একটা অক্টোপাস! তোমার স্বপ্নও আটকে রাখে পিচ্ছিল নরম আর লোভাতুর পা দিয়ে! তুমি সৈকত হয়ে জন্ম নাওনি! তবু ঢেউয়ের আঘাতে আঘাতে ভুলে গেছো লবঙ্গ বনগামী জাহাজের নাবিকের মুখ! তোমার বুকে শুধু স্তন নেই, সাহসের খনিও আছে, শুধু তুমি খনন করো...

কলিংবেল

মৃত্যুকে খুঁজতে গেলে বাড়ি পাবে না তোমার জন্য! মৃত্যু তোমাকে খুঁজে নেবে! তুমি বরং বৃক্ষের মূলে জল দাও, কামরাঙা পাতার সতেজতা দেখো, সফেদার ডালে এসে বসা চড়ুইয়ের সাথে কথা বলো, ও চড়ুই সঙ্গমেই সুখ নয়, এই ধূসর ডানায় মেঘ ছুয়ে দেখো, তুমিও পাবে রঙ্ধনুর জীবন! তোমার শরীরকে ছেড়ে দাও বাসি পূজোর ফুলের মতো ভোরের স্রোতে। তোমার মনকে ঘরের কলিংবেল করে রাখো। আমি এসে বাজাবো যেকোন সময়...

অবসর

এই ঘোড়াহীন ভ্রমণের নাম জিজ্ঞাসা! সব পথের পাশে মাইলফলক থাকে না। আমার ক্লান্তি মাপার উপায় কি? সামনে কেবলই আকাশ হেলে থাকতে দেখি। যেনো মাটিকে চুমু খেতে চায় অনাদিকাল থেকে। চন্দ্র সূর্যের কাছে মানুষের দায় দায়িত্ব দিয়ে আমার অবসর চাই। আমাকে অনেক আঁচল বাধতে গিয়ে শাড়ির কুচি খুলে গেছে! আমি ঘোড়া ভেবে কুপথে গমন করেছিলাম অতীতে!

Thursday, July 30, 2020

দিঘিজল :: গৌতম মণ্ডল


দিগন্ত যেখানে আরেক দিগন্তের
মধ্যে লীন হয়ে যাচ্ছে
সেখানে চিৎ হয়ে
শুয়ে রয়েছে একটি দিঘি
সারা গায়ে রোদ মেখে
দিঘির জলে সাঁতার কাটছে
একঝাঁক রাজহাঁস

একঝাঁক বুনো কুকুর 
অরণ্য চিরে ঢুকে যাচ্ছে
আরও গভীর অরণ্যের দিকে

অগোচরে একটু একটু করে
লাল হয়ে উঠছে দিঘিজল

গাংচিল ঘর :: পারিজাত ব্যানার্জী


ভাগীরথীর এই পাড়টায় সন্ধ্যা পেরিয়ে
আঁধারের পথ ধরেছে এখন কালরাত্রি।
আর আমি... এইখানে, 
এই বুড়ো অশ্বত্থ গাছটার তলায় বসে বসেই
প্রহর গুনতে গুনতে খালি ভাবছি;
কিভাবে এই এক আকাশজোড়া গর্ভবতী মেঘের কান্নায়
বাঁধ ভেঙে গল্পশেষে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে
আমার হার না মানা বুকের 
শেষ এই একরত্তি ভগ্নাংশও।

তা যাক।
যা বলছিলাম।
এই সামনের বড়রাস্তাটা পেরলেই জানি,
তোমার চৌহদ্দি শুরু।
ওই তো, এখানে বসেই
দিব্যি ঠাহর করতে পারছি
তোমার বাড়ির গলির মুখেই হাঁ করে দাঁড়িয়ে থাকা
বোবা ল্যাম্পপোস্টটার আবছা অবয়ব,
যার আলো আঁধারিতেই প্রথম
সব ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছিলাম একদিন
নিজের বাড়ি ফিরব বলে।
জানতাম না তখনও অবশ্য,
তুমিও কোনোদিন বলোনি, 
এই ভাগীরথীর বানেই কবে
ভেসে গেছে আমার সেদেশের সবকিছু,
যা পরে আছে,
তাতে মাথাটুকু গোঁজবারও ঠাঁই নেই আর কোথাও।


অগত্যা,
এই নদীর কোটর উপচে পরা ভরা শ্রাবণের জল সামলে
এই গাছতলাতেই বেঁধেছি আপাতত
আমার অস্থায়ী একখানা ঠিকানা।
রোজ সকালে সাঁতার শিখছি
এইখানেরই এক বস্তির কিছু রোজ রাতে 
বরের বাপের হাতে মার খাওয়া মেয়ে-বউদের কাছে।
তারপর ঠিক করেছি, 
এই বুকজলেই নেমে একদিন ভাসতে ভাসতে
পৌঁছে যাব প্রশান্ত মহাসাগরের কোনও ঔপনিবেশিক চত্বরে;
যেখানের গাংচিলেরা 
ভাষা হারানো কোনও স্বপ্নের গভীরে দাঁড়িয়ে
কথা দিয়ে গেছে আমায়,
সামান্য হলেও জায়গা করে দেবে তাদের আস্তানায়,
খড়কুটো জুটিয়ে যেখানে ছোট্ট হলেও অন্তত:
ঠিক বুনে নেব
আমার নিজের ঘর।

বেশ হবে বল?
তুমি এসব নিয়ে আবার কিন্তু বেশি ভাবতে বোসো না।
নাঃ, অনেক রাত হল, 
এবার শুতে যাও বরং।
তবে শোওয়ার আগে 
রাতের প্রেশারের ওষুধটা আবার 
খেতে ভুলে যেওনা যেন, 
কেমন?

Tuesday, May 8, 2018

অরুণাভ রাহারায়ের কবিতা


নাম
[ঋণ: জয় গোস্বামীর 'শরৎকাল' কবিতা]

তোমার নাম স্নিজা নয়। ভুল নাম বল কেন?
সিমলা ম্যালের ধারে ছোট্ট স্টেশনে
ফুটেছে যে পাহাড়ের ফুল-- তার নাম স্নিজা।
তোমার পিসির নামও স্বাগতা নয়।
মানালির মিঠেরোদে চুল মেলে দিয়ে
গীতবিতান গাইছে যে ঝাউগাছ, আর থেকে থেকে
পাহাড়কে ডাকছে কাছে-- তার নামই স্বাগতা।
তোমার বেড়ালের নাম পিংপং কে বলেছে? ওটাও ভুল।
বিপাশা নদীর তীরে বড় বড় পাথারের মধ্যে
মুখ লুকিয়ে আছে যে সাদা-গোল নুড়ি--
তারই নাম পিংপং।
তোমার মায়ের নাম বলতে হবে না। আমি জানি।
নিসর্গ-প্রকৃতি হয়ে সুদূর রোটাং পাসে যিনি
তোমাকে ধারণ করেছেন, শুধু আমার লেখার জন্য...
যাঁর কাছে আমি সর্বার্থেই ঋণী
তার নামই তো রিনা!
আমি বেড়াতে এলেই তোমাদের নামগুলো
তোমাদের ছেড়ে এদিক ওদিক পালিয়ে যায়...
এ ব্যাপারে কিন্তু আমার কিছু করার নেই!